,



সিরিয়ায় শিশু ও অসহায় মানুষ হত্যার প্রতিবাদ জানাই

বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার বিভিন্ন সংগঠন অপরাধ ঘটে যাওয়ার পর বিচার চায় । আমরাও বিচার চাই। কিন্তু এই বিচার চাওয়ার গ্রহণযোগ্যতা অথবা বিচার চাওয়ার আসলে মানেটা কি ? নির্যাতিত হওয়ার পর এক ধরণের ভিক্ষা বলা যায় কি এই বিচার চাওয়াকে ?
কত শিশু বিনা বিচারে হত্যা হচ্ছে ! বিভিষিকাময় ছবি দেখে দেখে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ছি তবুও কি কোন কথা নির্যাতনকারীরা শুনছে আসলে ? আমরা খুব সাধারণ । আমাদের একজন শিশু আমাদের চোখের দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেই আমরা আবেগে আপ্লুত হয়ে যাই । রাস্তায় কোন ভিক্ষুকের বা অসহায় মানুষের শিশুর কান্না দেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে আসি ! দিনশেষের সবটুকু আয় দিয়ে কেউ কেউ শিশুর হাসি কিনে বাড়ি ফেরে আর তাতেই সে মনে করে তার এক জীবন ধন্য । এত নরম মনের মানুষগুলো যখন দেখে শিশুরা রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে আছে এমন চিত্র তখন তারা আর কথা বলার ভাষাই রাখেনা ।

ভাবছিলাম এই ছবিটা নিয়ে লিখবোনা । ভালো লাগেনা অনেক আলোচনার বিষয় নিয়ে লিখতে । কিন্তু অক্সিজেন মাক্স নিয়ে দুই বোনের এই ছবিটি কেন যেন লিখতে বাধ্য করলো । অন্তিম মুহূর্তে রক্তের টান, ভালোবাসার টান যেভাবে দেখিয়ে দিয়ে গেল বড় বোন সেখানে পৃথিবীর সকল মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো, শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর বিপরীতে একেবারে চপেটা আঘাত বলা যেতে পারে । প্রশ্ন উঠতেই পারে শিশু অধিকার ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার বিভিন্ন সময়ে রঙ্গ মঞ্চে গিয়ে শিশুদের নিয়ে কাজ করে পুরুস্কার জেতার ছবিগুলো নিয়েও !

যেখানে বিচার হীনতার এত বড় বড় চিত্র সামনে ভেসে আসছে সেখানে মানুষ কিভাবে ভাববে তারা এখনও মানুষ প্রজাতির রয়েছে ? কয়টা শিশুর কথা বলবো , সিরিয়া, ইয়েমেন, আরাকান সবইতো আজ স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে মানবতাহীনতার চিহ্ন হিসেবে । আন্তর্জাতিক শান্তি সংস্থাগুলো বিবৃতি দিচ্ছে, যুদ্ধ বিরতি চাইছে আর পেছন দিয়ে মানুষগুলোর রক্তাক্ত দেহের স্তুপ বাড়ছে ! বিশ্ব এভাবে চলতে পারেনা । শিশুদের এমন অবস্থা দেখে আমরা বাঙালীরা অভ্যস্থ নই । আমার দেশের সরকার অন্যদেশের আরাকান থেকে আগত(রোহিঙ্গা) আট থেকে নয় লাখ মানুষকে বুক খুলে দিয়ে জায়গা দিয়ে দিয়েছে শুধুমাত্র মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে । দীর্ঘ অনেকদিন আমাদের দেশের ভ‚মি, আমাদের দেশের খাদ্য, নিরাপত্তা ভোগ করা এ রোহিঙ্গারা কবে দেশ ছাড়বে তারও কোন নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি । সুচির বিচারের কথা বার বার বলা হলেও চাক্ষুস কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি । সিরিয়া, ইয়েমেন বা রোহিঙ্গা যাই বলা হোক প্রতিটি ভ‚মিই মানুষের রক্তে আজ লাল। বাংলাদেশের মহানুভবত্বও দেখেও বিশ্ব শেখেনি, শিক্ষা নিতে চায়নি ? তবে কি বিশ্ব এভাবেই রক্তাক্ত হতে থাকবে ?

যুদ্ধ কোন দেশ বন্ধ করবে কিনা তা ঐদেশের আভ্যন্তরিণ ব্যপার কিন্তু শিশুদের এমন করুণ চিত্র আমরা আর দেখতে চাইনা ।শিশুর নি¯পাপ এবং তাদের এ ফুলের মত জীবনের নিশ্চয়তা চাই বিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাছ থেকে । আহাজারি আর রক্তাক্ত চেহারায় যে বিচারহীনতা শিশুরা শিখছে তা পরবর্তি পৃথিবীকে ভালো থাকতে দেবেনা আমাদের । সকল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থার কাছে অনুরোধ আপনারা শিশু হত্যাকারী ঐ সব দেশের সরকার প্রধানের সাথে আলোচনায় বসুন । শিশুদের অসহায় আকুতির এমন চিত্রগুলো আমাদের মনুষ্য সমাজ থেকে সরাতে এক হয়ে কাজ করুন । শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভ‚মিকা রাখার জন্য কাজ করুন ।

শান্তি না আনতে পারলেও অন্তত শিশু ও অসহায় মানুষদের রক্ষায় এগিয়ে আসুন ।নির্বিচারে শহরের মধ্যে বিমান হামলা, গ্যাস বোম্বিং অথবা যেকোন ধরনের রাসায়নিক হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন । যদি এ পৃথিবীর বুকে নৃশংস, মানব বিতারণ হামলাই হবে তবে শান্তি সংস্থাগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারীতা কতটুকু তাও বিচারিক আওতায় আনার প্রয়োজন দেখা দেবে এক সময় ।সুষ্ঠ সমাধানের জন্য প্রত্যেকটি দেশ এক হয়ে যুদ্ধ বন্ধে কাজ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি ও এই নৃশংস সকল হত্যাকান্ড ও জুলুমের প্রতিবাদ জানাচ্ছি ।

লেখক: সাঈদ চৌধুরী, কলামিস্ট ও রসায়নবিদ

aschowdhury88@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ