,



হয় ঘুষ না হয় পুশ

আমরা সভ্য হতে হতে এই পর্যায়ে পৌছেছি যে হয় ঘুষ না হয় পুশ, এ দুটি ছাড়া আর চলছেই না। পুশ মানে মামা-খালুর জোর অর্থ্যাৎ পিছন থেকে ব্যাকআপ দেওয়ার লোক যার রয়েছে তার দ্বারা এ দেশে বর্তমানে অনেক কিছুই সম্ভব। তবে অধিকাংশ লোকের পুশের লোকের অভাব তাই ঘুষই যেন একমাত্র ভরসা।

সামাজিক জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সকল পর্যায়ে এমনকি ব্যক্তি জীবনেও ঘুষের প্রভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘুষ ছাড়া যেন কোনো কিছু করা নামওমকিন। সরকারি-বেসরকারি সব অফিসের ফাইলে ফাইলে ঘুষ টেবিলে টেবিলে ঘুষ। ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়েও চড়েও না। ঘুষ না দিলে বসের সমস্যা, সরকারি জটিলতা, আজকে এ নেই কালকে সে নেই এমন হাজারটা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সাধারণ মানুষের প্রতিটা ক্ষেত্রে। সরকারি সব দপ্তরেই ঘুষ বাণিজ্য রমরমা। পিয়ন থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রত্যেক টেবিলেই দিতে হচ্ছে উৎকোচ। সাধারণ মানুষ এক রকম জিম্মি অবস্থায়,বাধ্য হয়ে দিতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এর যেনো কোনো প্রতিকার নেই।

ঘুষ প্রক্রিয়াও এখন আধুনিক হয়েছে। ডিজিটাল যুগ বলতে কথা। কেউ আর এখন এনালগ যুগে নেই,ঘুষখুরেরাও নতুন নতুন কৌশলে ওটা নিয়ে থাকেন। কেউ বলেন উপহার আবার কেউ বলেন কমিশন। আর হুজুর সাবরা বলে থাকেন হাদিয়া। মোট কথা এটি বর্তমান সময়ে মহাব্যাধিতে রূপ নিয়েছে।

এ ঘুষ প্রবণতার অবশ্য বড় ৩টি কারণ রয়েছে বলে মনে করি। প্রথম এবং প্রধান একটি কারণ হলো পরিবার আর দ্বিতীয়টি হলো পরিবেশ এবং তৃতীয়টি হলো পরিস্থিতি।

পরিবার: পরিবার হলো পৃথিবীতে একজন মানুষের সব চেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখান থেকেই মানুষ জীবনে বড় হওয়ার প্রথম শিক্ষা নিয়ে থাকে। যে পরিবারের বাবা মা অসৎ থাকে, অর্থ্যাৎ অসৎ উপায়ে টাকা পয়সা উপার্জন করে থাকে সে পরিবারের পরবর্তী প্রজন্ম অসৎ হবে, কর্মক্ষেত্রে অসৎ উপায়ে টাকা উপার্জন করবে এটাই স্বাভাবিক।

পরিবেশ: ঘুষ দিয়ে পাওয়া চাকরীজীবি মানুষটি যখন দেখবে কলিগ ও বসেরা টাকা ছাড়া কোনো কাজ করছে না তবে সে কেনো করবে।

পরিস্থিতি: অনেক সময় চাকরী বা জীবন বাঁচাতে উপর মহল বা প্রভাবশালীদের অনেক কাজ টাকা নিয়ে করে দিতে হয়।

সর্বোপরি ঘুষ বাণিজ্য যেভাবে আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে তাতে সুনিশ্চিত ভাবেই বলা যায় খুব সহজেই এটির হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করা সহজ হবে না। এর জন্য পরিবার থেকেই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ছোট বয়স থেকেই সততা অবলম্বনের পরামর্শ দিতে হবে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ন্যায় নীতির বীজ বপন করে দিতে হবে।

সরকারি-বেসরকারি সকল পর্যায়ের কর্মচারীদের সঠিক পারিশ্রমিক দেওয়ার মাধ্যমে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ইসলামী চিন্তা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ও আল্লাহ ভীতি জাগিয়ে তুলতে হবে। আসুন সকল প্রকার অনৈকিতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে দাঁড় করিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ