,



পুলিশ নিজস্ব গতিতেই জনগণের পাশে আছে

শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো এবং গ্রেফতার এ সব বিষয় নিয়ে মতামত দিয়েছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার, সাইবার ক্রাইম সিকিউরিটি এবং কাউন্টার টেরোরিজম মোঃনাজমুল ইসলাম। মতামতটি  গ্রহণ  করেছেন সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেন শুভ।
শুরুতেই বলে নিচ্ছি পুলিশ বাংলাদেশের এ আবহমান টিপিক্যাল সমজাব্যবস্থারই একটা বাস্তব সত্য। সমাজের অন্য এন্টিটিগুলোর মতই পুলিশেরও কিছু ভুল ত্রুটি (deviations) রয়েছে। যেভাবেই হোক পুলিশ আলোচ্য আন্দোলনের একটা অংশ হয়ে গেছে, সেটা নিতান্তই পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকেই, অধিনকন্ত পুলিশ আন্দোলনের একটা বড় অংশ এই মতে যে এই আন্দোলনের সাথে পুলিশ একমত ও নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের একটি বড় স্টেইকহোল্ডারও বটে। নিঃসন্দেহে বলা যায়, সকলের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন আজ সবার কাছে সম্মানিত। পুলিশসহ অনেকেই এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছে এবং আন্দোলনের ফলাফল আজ সবখানেই ইতিবাচকভাবেই উপলব্ধ। এই আন্দোলন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার কে উল্লেখযোগ্যভাবে অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। বলা বাহুল্য হবে না যে, হালের গনআন্দোলন গুলোর হালে পানির ফোয়ারা ফোটাচ্ছে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো। আর সেখানেই বিপত্তি! পানি ঝড় হয়ে আসার কারনে বুমেরাং হয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক আন্দোলন গুলো।
যাই হোক গুজব পীড়ায় সমাজ যখন আক্রান্ত, তখন এটা বলাই যায় যে, গনতান্ত্রিক চেতনার বিকাশ গুজবের কাছে কেন পরাজিত হবে। মোদ্দা কথাটা এখানেই; পুলিশ আইনের ভাষ্য নিয়ে পটে আগমন করলো তখনই যখনই এই গুজব সহিংসতাকে উস্কে দিল আর সেটা জননিরাপত্তার খাতিরেই। স্বভাবতই পরে পুলিশ বেশ কিছু মামলা রুজু করে ও প্রায় অর্ধশত মানুষকে আইনের আওয়াত নিয়ে আসে। এর মধ্যে অনেকেই ছাত্র ও কয়েকটি মাইনর রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ অবশ্যই সহানুভূতিশীল এইসব কোমলমতি ছাত্রদের ওপর। সম্মানিত কমিশনার মহোদয়ও আন্তরিক এইসব ছাত্রদের আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে। আর সেটার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। হয়তো ভিন্নমতাবলম্বীরা বলবে এদের ওপর জুলুম বা এসল্ট করা হয়েছে, সেটা ১০০% মিথ্যা সেটা জামিনপ্রাপ্তদের কাছে শুনলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। এটা এখানে বলা প্রণিধানযোগ্য যে, যারা আতংক ছড়াচ্ছে যে সবার ফেসবুক প্রোফাইল সাইবার ইউনিটে ঘাটাঘাটি করা হচ্ছে সেটা ডাহা মিথ্যা বই কিছু না। আমি এখানে কাজ করি, আমি যা বলছি তাই কোট করবেন। সম্মানিত কমিশনার স্যার এর আদেশে আমরা মোটামুটি ১০০+ প্রোফাইল নিয়ে কাজ করছি, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহিংসতার আহবান জানিয়েছে বা সহিংসতাকে উস্কে দিয়েছে। তাই সাধারন কোমলপ্রাণ ছাত্রছাত্রী ভাইবোনদেরকে বলতে চাই যে, আতংকিত হবার কিছু নাই, পুলিশ তোমাদের কে খুজছে না বরংচ তোমাদের এই মহান ত্যাগ কে শ্রদ্ধা জানায়। তবে বরাবরে মতই পুলিশ সাইবার ভাওলেন্স(social media enabled violence) কে রুখে দেবে ও সেখানে কোন ছাড় নেই।
আগেই বলা হয়েছে যারা আইনের আওতায় এসেছে তারাও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ন্যায়বিচার পাবে। এই চিন্তার বাইরে গিয়ে পুলিশ আগ বাড়িয়ে অতি উৎসাহী আচরণ করে নাই বা করবে না। তবে সাইবার ভাওলেন্স কারীদের ছাড় দেয়া হবে না। অতএব, সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা নিশ্চিন্তে থাকবে এবং তাদের জন্য শুভকামনা ও ঈদ মোবারক!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ