,



শ্রীপুরে ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃ পরিচয় চাওয়াতে ফের ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  প্রায় দেড় বছর আগে ভয় দেখিয়ে ১২/১৩ বছরের শিশুকে লাগাতার ধর্ষণের ফলে জন্ম হয় এক কন্যা শিশুর। কন্যা শিশুটির বয়স বর্তমানে ৫ মাস, নির্যাতনের বিচার না পেয়ে শিশুর নাম রাখে তারা অত্যাচার। শিশু অত্যাচারকে নিয়ে মা শিশু যখন পিতৃ পরিচয়ের দাবীতে সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ঠিক তখন আবারো ধর্ষণের শিকার হলো ওই মা শিশু । তবে এবার প্রথম ধর্ষণকারীর যোগসাজস ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সহযোগিতায় মা শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় অন্য একটি লম্পট যুবকের দ্বারা। এ নিয়ে শ্রীপুর থানার দ্বারস্থ হলে ওসি তদন্ত নির্যাতিত শিশুর বোনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ জেলহাজতে আটকিয়ে রাখার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার গিলারচালা গ্রামে। এ ঘটনায় গত ৭ মে কিশোরী মা ও তার শিশু শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। বর্তমানে নির্যাতিত কিশোরী শ্রীপুর থানার হেফাজতে ডিএনএ পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ধর্ষক সেজানকে আটক করেছে শ্রীপুর থানা পুলিশ। সেজান নেত্রকোনা জেলার সদর উপজেলার গাজার কান্দি গ্রামে হাবুলের ছেলে। তার ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়াও চলছে।

নির্যাতিত মা শিশুর স্বজনদের ভাষ্যনুযায়ী, পৌর এলাকার গিলারচালা গ্রামের হাজী আব্দুল মান্নানের বাড়িতে তারা কিশোরীকে নিয়ে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন। কিশোরীটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী। দেড় বছর আগে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নিপিড়ন করেন বাড়ির মালিক আব্দুল মান্নানের ছেলে জহিরুল ইসলাম। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরে। এ ঘটনা স্থানীয় ভাবে প্রকাশ পেলে কিশোরীর পিতা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় জহিরুলকে অভিযুক্ত করে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার হন অভিযুক্ত জহিরুল। এরই একপর্যায়ে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অন্ত:সত্ত্বা কিশোরী এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। অপরদিকে, আইনের ফাঁক দিয়ে জেল থেকে বের হয়ে আসেন জহিরুল। সামাজিক ভাবে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে থাকা এই পরিবারের অসহায়ত্বকে কেন্দ্র করে আবারও শুরু হয় নানা ধরণের নির্যাতন। এবার মামলা প্রত্যাহারের চাপ, সাথে আসামীদের হয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিলান উদ্দিন দুলালের আপোষের প্রস্তাব। কিন্তু সবকিছু নাকচ করে কিশোরী যখন তার সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবীতে অনড় তখনই নেমে আসল আবার অত্যাচার। গত ৭ মে (মঙ্গলবার) সকালে কিশোরীর বাবা ও মা কাজের জন্য বাহিরে চলে গেলে ফের যৌন হয়রানীর শিকার হন এই মা শিশু ।

নির্যাতিত মা শিশু বলেন, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে জহিরুল কয়েকজন নিয়ে এসে আমাকে ও আমার সন্তানকে মারধর করে। একপর্যায়ে টেনেহিচরে কাছেই তাদের মার্কেটের ভিতরে নিয়ে যায়। পরে মুখে চেপে ধরে সেজানকে দিয়ে ধর্ষণ করায়। কাউন্সিলর দুলাল মনে হয় পাশেই ছিলো সে আমাকে বলে তুই খারাপ মেয়ে বলবি, নয়লে তোর ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দিবো। দেড় বছর আগে এই জহিরুলই আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকবার ধর্ষণ করে এবং আমি কন্যা সন্তানের মা হই।

নির্যাতিত শিশুর মামাতো বোন জড়িনা খাতুন জানান, খবর পেয়ে দৌড়ে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি বোনের শরীরে আঘাতের চিহ্ন, চুল এলামেলো। কাউন্সিলর দুলাল ও জহিরুল ইন্টারনেটে ছবি ছেড়ে দেয়ার কথা বলছে।  ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। পরে সেখান থেকে বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। জহিরুলকে বাঁচাতে কাউন্সিলর উঠেপরে লেগেছে। সে আমাকে ৫ লাখ টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। নাটক সাজিয়ে সিজানকে দিয়ে আমার বোনকে আবারো ধর্ষণ করিয়েছে। এসব বিষয়ে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি (তদন্ত) শেখ সাদি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে, যা এখন মুখে আনতে পারছি না। থানায় আটকে রেখে আমাকে খারাপভাবে শারীরিক নির্যাতনেরও হুমকি দেয়। পরে আমরা নিরুপায় হয়ে এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের কাছেও একটি অভিযোগপত্র দিয়েছি।

৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিলান উদ্দিন দুলাল নিজের জড়িত থাকার কথা নাকচ করে জানান, এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি নিজেও এ ঘটনার জড়িতদের বিচার চান।

অশালীন আচরণের কথা অস্বীকার করে শ্রীপুর থানার ওসি (তদন্ত) শেখ সাদি জানান, ওই মহিলা কার প্ররোচণায় আমার নামে এসব মিথ্যা বলেছে তা বলতে পারছি না। তবে অভিযুক্ত জহিরুলের ডিএনএ পরীক্ষা করেছি তার কোনো সম্পৃক্ততা পাইনি। দ্বিতীয় অভিযোগের ভিত্তিতে সেজানকে আটক করেছি। তার ডিএনএ পরীক্ষা প্রক্রিয়াধীন। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য লক্ষণে বুঝা যায় সেজানই ধর্ষক এবং জন্মনেওয়া শিশুটির বাবা। শীঘ্রই এর জট খুলবে বলে আশা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ