,



শ্রীপুরে বনের জমি দখলের প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আমাজনের জঙ্গলে দাবানল। পুড়ছে পৃথিবীর ফুসফুস। আর ক্রমশই বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। ফলে আমরাও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগের শিকার হচ্ছি। আমাজনের দাবানল কিছুটা প্রাকৃতিক কারণে হলেও গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বঞ্চাচল ধ্বংসের যেনো মহা উৎসব চলছে। হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বনাঞ্চল। যার কারণে বৈরী আবহাওয়াসহ জলবায়ুর মারাত্মক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। এখানে শুধু বনের জমি দখলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, দখল করে নিজেদের কব্জায় রেখে পজিশন বিক্রিও শুরু হয়েছে। দু’চারজন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছও হয়েছে।

উপজেলার কাওরাইদ, মাওনা, রাজাবাড়ি, প্রহলাদপুর ও তেলিহাটি ইউনিয়নের এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল বন বনের সংরক্ষিত গেজেট ভুক্ত প্রায় হাজার বিঘা জমি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে দখল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। যেনো বনের জমি দখল করে পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণের প্রতিযোগিতা চলছে।

এ বিষয়ে বলদীঘাট বিট কর্মকর্তা মোঃ আয়ুব খান জমি দখলের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি। তবে আমরা বসে নেই। ইতোমধ্যেই বনের জমি দখল করে অবৈধভাবে নির্মিত প্রায় ১৫-২০টি ঘরবাড়ি উচ্ছেদসহ বন আইনে মামলা দিয়েছি।

সরেজমিনে দেখা যায়, তেলিহাটি ইউনিয়নের উদয়খালী মোড়ের ২শ গজ দক্ষিণে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করছেন গফরগাঁও থেকে আসা জহিরুল নামে এক ব্যক্তি, তার দেখাদেখি পাশের জমিতে সোহাগ নামের এক জন পাকা দালান ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। এদিকে পোষাইদ গ্রামে মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে খোরশেদ মিয়া ৩/৪টি পাকা দালান ঘর নির্মাণ করেছে, ছাতিরবাজার এলাকার নয়ন মিয়াসহ অনেকেই বিট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই ঘর নির্মাণের কাজ করছেন। তবে বিট কর্মকর্তার তথ্যমতে দেখা গেছে মামলার প্রেক্ষিতে অবৈধ দখলকারী হোতাদের কাউকেই আটক করা হয়নি।

সাতখামাইড় বিট কর্মকর্তা ছিদ্দিক মিয়া জানান, বিশাল এ বন এলাকা দেখাশোনা ও পর্যবেক্ষণ করার জন্য পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর ফরেস্ট রেঞ্চ কর্মকর্তা আনিছুল জানান, যারা সরকারি জমিতে ঘর নির্মাণ করেছে তাদেরকে মামলা দিয়ে দিয়েছি। অচিরেই অবৈধ দখলদারিদের উচ্ছেদ করে বনের জমি উদ্ধারের জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ