,



সোনিয়া, প্রিয়াংকার সমর্থন নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনে

নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) নিয়ে ভারতে চলমান আন্দোলন, বিক্ষোভে অবশেষে সমর্থন দিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও অন্যতম নেত্রী তার মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী । ওই আইনকে বৈষম্যমুলক বলে আখ্যায়িত করেছেন সোনিয়া। আর নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছেন প্রিয়াঙ্কা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এতে বলা হয়, ওই আইনটি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, তরুণ ও নাগরিক সমাজের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন সোনিয়া। তিনি ‘বর্বর শক্তি’ প্রয়োগ ও নিপীড়নের জন্য বিজেপি সরকারের নিন্দা জানিয়েছেন। এমন আন্দোলনে সোনিয়ার এমন সমর্থন অস্বাভাবিক। তিনি সমর্থন প্রকাশ করে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, সরকারের কর্মকান্ডের নিন্দা জানাচ্ছে কংগ্রেস।

অন্যদিকে শুক্রবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন তার মেয়ে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াংকা। তিনি সেখানে গিয়ে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মাটিতে বসে পড়েন। এ সময় তিনি বলেন, দেশজুড়ে প্রস্তাবিত নাগরিকপঞ্জি হলো দরিদ্রদের বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি ২০১৬ সালে নোট নিষিদ্ধকরণ এবং এনআরসির মধ্যে সমতা খোঁজেন।

একই সঙ্গে ছাত্রছাত্রী ও ভারতের নাগরিকদের অধিকারের পক্ষে লড়াইয়ে সংহতি প্রকাশ করছে। এ সময় তিনি নাগরিকত্ব সংশোধন আইন এবং দেশজুড়ে প্রস্তাবিত নাগরিকপঞ্জিকে বৈষম্যমুলক বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, জনগণের উপলব্ধি বাস্তব ও আইনসঙ্গত। নাগরিকত্ব সংশোধন আইন সব মানুষকে এটাই প্রমাণ করার লাইনে দাঁড় করিয়ে দেবে যে, তারা এবং তাদের পূর্ব পুরুষরা নাগরিক ছিলেন সেটা প্রমাণ করতে। অন্যদিকে নাগরিকপঞ্জি তো করা হবে গরিবদের টার্গেট করে। তার ভাষায়, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন বৈষম্যমুলক এবং দেশজুড়ে প্রস্তাবিত নাগরিকপঞ্জিতে বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গরিব ও বিপন্ন মানুষগুলো।

সোনিয়া গান্ধী জনগণের এই বিক্ষোভকে স্বতঃস্ফূর্ত বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, বিজেপি সরকারের বিভক্তি সৃষ্টিকারী এবং জনবিরোধী এজেন্ডা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষোভ, বিভক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, গণতন্ত্রে জনগণের অধিকার আছে সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ও নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার। সমানভাবে সরকারেরও দায়িত্ব তাদের কথা শোনা এবং তা বিবেচনায় নেয়া। কিন্তু বিজেপি সরকার জনগণের কণ্ঠের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়েছে। তারা ভিন্নমতকে দমন করছে বর্বর শক্তি দিয়ে। গণতন্ত্রে এটা অগ্রহণযোগ্য। তাই সংবিধানে দেয়া মৌলিক অধিকার এবং সেই অধিকারকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে জনগণের পক্ষে অবস্থান নেয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে কংগ্রেস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ