,



ভোটের আগেই ‘জয়ী’ চার প্রার্থী

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোটের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের ব্যস্ততা এবং সম্ভাব্য ফল নিয়ে উৎকণ্ঠা বাড়লেও কাউন্সিলর পদে কয়েকজন আছেন চিন্তামুক্ত। কারণ তাঁদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। ফলে ভোটের অন্তত ২০ দিন আগে থেকেই তাঁরা ‘জনপ্রতিনিধি’ হয়ে বসে আছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) এমন চার প্রার্থী হলেন—২৫ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনোয়ার ইকবাল, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে আরিফ হোসেন এবং সংরক্ষিত ৬ নম্বর আসনে নারগীস মাহতাব, সংরক্ষিত ৮ নম্বর আসনে নিলুফার রহমান।

জানা যায়, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনোয়ার ইকবাল সান্টু এবং বিএনপি সমর্থিত হাজি আলতাফ হোসেন। আলতাফ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সান্টু। ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমার নেত্রী আমার ওপর ভরসা রেখেছেন। তাই আমি দল থেকে সমর্থন পেয়েছি। কারা ছিল, বাদ পড়ল—সেটা এখন আর দেখার সময় নেই। এলাকার উন্নয়নে কাজ করে মানুষের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাই হবে মূল লক্ষ্য।’

জানা যায়, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আরিফ  হোসেন, বিএনপি সমর্থিত মোস্তাফিজুর রহমানসহ পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি আপিল করেননি। আরিফ হোসেন ছাড়া অন্য প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। ফলে আরিফ হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

ডিএসসিসির ৬ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন বিএনপি সমর্থিত রফিকা আফরোজ, আওয়ামী লীগ সমর্থিত নারগীস মাহতাব এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসাম্মৎ কিশোয়ারা। গত ৫ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন রফিকা আফরোজ। আর ৯ জানুয়ারি প্রত্যাহার করেন মোসাম্মৎ কিশোয়ারা। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন নারগীস মাহতাব। তবে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী রফিকা আফরোজ পরে রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন, মানসিক চাপ প্রয়োগ করে তাঁকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়। রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেন বলেন, ‘নিজে এসে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় এবং চাপের বিষয়ে জানতে চাইলেও তিনি কিছু না বলায় আমাদের আর কিছু করার নেই।’

ডিএসসিসির ৮ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্রই জমা দেন মাত্র একজন। তিনি হলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নিলুফার রহমান। স্বাভাবিকভাবেই তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এক প্রশ্নের জবাবে নিলুফার রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে বড় হয়েছি। তাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা সব সময় অনুসরণ করেছি। এটা তারই পুরস্কার। এলাকার মানুষও আমায় ভালোবাসে। অন্যরা জানে হয়তো মনোনয়ন কিনে কোনো ফল পাবে না। তাই হয়তো নেয়নি। আমি নির্বাচিত হয়েছি। এখন কাজ হবে শুধু কাজ করে যাওয়া।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ