,



‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে শিশুপার্ক না সরানো দুঃখজনক’

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং সেখানে থাকা স্থাপনার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা জানাতে রাষ্ট্রপক্ষকে মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় আদালত বলেন, ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতিকে নষ্ট করার জন্যই সেখানে শিশুপার্ক করা হয়। ওখানে শিশুপার্ক থাকাটা দুঃখজনক। আদালত উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের সরকার এতদিন ধরে ক্ষমতায়। এতদিন শিশু পার্কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি কেন? আদালত আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করা এবং নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি শোনানো উচিৎ।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ উল্লেখিত মন্তব্য করেন। আদালত আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। আদালতে রিট আবদেনকারী অ্যাডভোকেট ড. বশির আহমেদ নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল ইসলাম।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ওই দিনটি জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. বশির আহমেদ রিট আবেদন করেন। এ রিট আবেদনে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর রুল জারি করেন।

রুলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ভাষণ দিয়েছিলেন, মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেছিলেন এবং স্বাধীনতার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল সেই মঞ্চ কেন পুননির্মাণ, বঙ্গবন্ধুর আঙ্গুল উচানো ভাস্কর্য্য স্থাপন ও ৭ মার্চ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ১৯৭১ সালের ৭ মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে কেন ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

এই রুলের ওপর শুনানিকালে ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু ভাষণ দিয়েছিলেন সেই মঞ্চ পুননির্মাণ, বঙ্গবন্ধুর আঙ্গুল উচানো ভাস্কর্য্য স্থাপনের প্রকল্প পরিকল্পনা (প্রজেক্ট প্ল্যান) গ্রহণ এবং ৭ মার্চ দিনটিকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে ঘোষণার বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে মন্ত্রী পরিষদ সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার এই রুলের ওপর শুনানির দিন ছিল। শুনানিকালে আদালত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং ওখানে থাকা স্থাপনার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান। আদালত আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ