,



বায়ুদূষণ এক মহাসংকট

দিনকে দিন বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে বায়ু এ যেন সংকট থেকে মহাসংকট এ রুপ নিচ্ছে বায়ুদূষণ। যা কিনা বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষ থেকে সরকার এর মাথা ব্যাথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন চেষ্টা যেন কাজে আসছে না,বরং রেড়ে যাচ্ছে দূষণ এর মাত্রা। এযেন লাগাম হীন পাগলা ঘুরা,ছুটে চলছে অজানা কোন পথে, শেষ কোথায় জানা নেয় কারও।

সাম্প্রতিক সময়ে যখন সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস নিয়ে চিন্তিত, আমাদের দেশের চলে যাওয়া ডেঙ্গু রোগ তার থেকে অনেক অনেক বেশি চিন্তার কারণ বায়ুদূষণ। কারণ এটা যে আমাদের দেশে আরো বেশি ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করতে পারে বর্তমান সময়ে গবেষকরা এমনি ধারনা করছে ।শুধু মাত্র যে আমাদের দেশে তা-ও কিন্তু নয় এযে সারা বিশ্ব জুড়ে এক মহা হুমকি। দিনকে দিন বদলে যাচ্ছে পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে নতুন সংকট। তবে সে সংকটটা যেন আমাদের দেশে বেশি ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারি প্রমাণ কিছু দিন আগের ঘটনা যখন ঢাকাশহর কে দেখা গেছে দূষিত শহরের শীর্ষ স্থানে আর সেটাও বেশ কয়েক বার। এমন অবস্থা শুধু ঢাকা নয় পাশের শহর গুলা সহ সারা দেশ দূষণের কবলে। তাই তো এখনি সময় আমাদের সচেতন হবার আর নয়তো দেরি হয়ে যাবে অনেক। তখন হয়তো থাকবে না আমাদের নিয়ন্ত্রণে চাইলেও পারবনা না সংকটকে আটকে রাখতে।

বায়ুদূষণের পেছনে যা কাজ করছে তা হলো, ইটের ভাটা যা থেকে প্রতিনিয়ত খোলা আকাশে কোনডলি বেদে উঠছে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, সাথে আছে শিল্প কারখানার ধোঁয়া এবং রাস্তা কারপেটের তৈরিতে ব্যবহারকৃত জুট পুরানো বিষাক্ত ধোঁয়া। এছাড়া রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপ তার থেকে ছড়ানো দূর গন্ধ, রাস্তায় কাজের উন্নয়নে খুড়াখুড়ি, গাড়ি চলাচলে বাতাসের সাথে উঠছে ধোলা, যা কিনা দূষণ করছে বায়ুকে বাড়াচ্ছে জনদুর্ভোগ ।

আরও একটি প্রধান কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে গাছ পালা না থাকা। সব কিছু মিলিয়ে এক মাহা হুমকির মুখে আমাদের দেশে। যার থেকে শাস কষ্ট থেকে শুরু করে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশ্ব স্বস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়ার প্রতি ৩ জনের মাঝে ২জন মারা যায় বায়ুদূষণ জনিত রোগের কারণে। এমনকি অনেক গবেষণা এবং সংস্থার তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর বাংলাদেশে পৌনে ২ লাখ, এশিয়ায় ২৬ লাখ লোক মারা যায় শুধু মাত্র বায়ুদূষণের কারণে। বিভিন্ন গবেষণা ও সংস্থা মতে বায়ু মান বা সূচক ০থেকে ৫০ পযন্ত আদর্শ হলেও সারা বছর তা থাকছে ২০০ থেকে প্রায় ৫০০ পযন্ত। যা আমদের জন্য বড় সমস্যা এবং হুমকি। আমরা যদি পিছনে দেখি তবে ২০১৮-১৯ বছরে মাত্র ১১ দিন আদর্শ বায়ু গ্রহণ করেছে ঢাকা বাসী। আরো পেছনে তাকালে দেখা যায় ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পযন্ত শীতকালে ১২ গুণ এবং বর্ষাকালে ২ গুণ বেশি থাকে বায়ুর সূচক। এমন অবস্থায় মুক্তির পথ খুজতে হবে আমাদের। আর এটা যখন একা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব হবে না তখন গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করতে হবে সরকারকে। শক্তিশালী এবং স্থানীয় ভাবে করতে হবে সমাধান, যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা নিতে হবে খুব দ্রুত। সঙ্গে থাকতে হবে প্রতিটি মানুষকে বিশেষ করে শিক্ষিত এবং সচেতন সমাজকে। আর নয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পড়তে হবে আরো বড় সমস্যা এবং সংকটে, প্রজন্মকে থাকতে হবে নানা রোগের সাথে, তাই তো গবেষকরা বলছেন এখন উন্নত চিকিৎসা থেকে বেশি প্রয়োজন নির্মল বায়ু। যা  আমাদের মানব জাতির জন্য অপরিহার্য।

লেখকঃ ইমরান হাসান

শ্রীপুর, গাজীপুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ