,



বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট একটি শব্দের নাম ‘ধর্ষণ’

আধুনিক সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম নাম ধর্ষণ । যার কারণে দিন কে দিন বাড়ছে মৃত্যুর হার। শূন্য হচ্ছে হাজারো মায়ের কুল। পূর্ণ হবার আগেই ভাঙ্গছে হাজারো স্বপ্ন। যে সময়ে তাদের বিশ্বজয় করার কথা সেই সময়ে তারা যুদ্ধ করছে মৃত্যুর সাথে। বাঁচাতে আকুতি করছে সমাজের কাছে।

ধর্ষণ এর পিছনের কারণটা খোঁজ করলে হয়তো অনেক কিছু বেড়িয়ে আসবে, তার মাঝে অন্যতম কারণ আমাদের বিকৃত মানসিকতা। তার পরে যে কারণটা বড় ভূমিকা পালন করে তা হলো পোশাক। সেই সাথে আছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা যেখানে নৈতিক শিক্ষার বড্ড বেশি অভাব । যার কারণে আজ আমাদের নারী সমাজ কোথাও নিরাপদ নয়। প্রতিদিন টেলিভিশন কিংবা খবরের কাগজ খোলে দেখা যায় ধর্ষণ এর মতো নিকৃষ্ট খবর। সমাজকে যারা শিক্ষা দিবে তারা যেন আর বড় অশিক্ষিত হয়ে গেছে। স্কুল কলেজ এর মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘটছে শিক্ষক দ্বারা ধর্ষণ এর মতো ঘটনা । যারা দিবে নৈতিক শিক্ষা সেই ধর্মশালা মাদ্রাসা, মন্দির কিংবা গির্জায় গেলে দেখা যায় ধর্ষণ এর ঘটনা। তবে এই আধুনিক সময়ে এসে আমাদের নারী সমাজ কোথায়ই নিরাপদ। বিশ্ববিদ্যালয় এর মতো জায়গাতে দেখা যায় যৌন হয়রানি এর মতো ঘটনা, দেখা যায় পাবলিক গাড়ি কিংবা পার্কের মতো জায়গাতে ঘটছে ধর্ষণ এর মতো নিকৃষ্ট কাজ। তবে এর শেষ কোথায়? আর কত মায়ের কোল খালি হলে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে? আর কত নারী তার জীবনের সব টুকু দেয়ার পরে এই সমাজের সচেনত হবে?  সচেতন হবে সমাজের কর্তাব্যক্তিরা।

এইবার তবে একটু পেছনে ফিরে তাকাই, দেখি ধর্ষণ এর ভয়ানক চিত্র, বাংলাদেশে ধর্ষণ বাড়ছে ৷ বেড়েছে নারীর প্রতি সহিংসতাও ৷ কঠোর আইন, প্রচার প্রচারণা ও উচ্চ আদালতের নানা ধরণের নির্দেশনার পরও নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো যাচ্ছে না৷ মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে এক হাজার ৪১৩জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৷ ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিলো ৭৩২জন ৷ অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে দ্বিগুণ যা ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি ৷ ২০১৭ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮১৮ জন নারী ৷ আর এই বছর অথাৎ ২০২০ সালে শুধু জানুয়ারী মাসের প্রথম দশদিনে ধর্ষণ হয় ১২৮ জন যার সংখ্যা এখন আরো বেশি দাঁড়িয়েছে। আমরা যদি আরো পিছনের দিকে তাকায় তবে চিত্রটা আরো বেশি ভয়াবহ। ২০০১ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ধর্ষণ এর শিকার ১৩ হাজার ৬৩৮ জন, গণধর্ষণ বা দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ২ হাজার ৫২৯ জন এবং এর মাঝে শিশুর সংখ্যা ৬ হাজার ৯২৭ জন। ধর্ষণ পরবর্তী খুন ১ হাজার ৪৬৭ এবং আত্মহত্যা ১৫৪ জন। এই চিত্র শুধু মাত্র গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে কিন্তু বাস্তবে এর সংখ্যা আরও অনেক বেশি। এই যখন আমাদের নারী সমাজের অবস্থা এর মাঝে বর্তমানে আরো একটি সমস্যা হলো তথ্য প্রযুক্তি।  সারা বিশ্ব যখন এর ভালো দিক গুলো গ্রহণ করছে তখন আমাদের সমাজে কিছু মানুষ জিরো থেকে হিরো হওয়ার জন্য অহরহ শর্টফিল্ম তৈরি করছে, যার মাঝে যৌন হয়রানিমূলক অশ্লীল ভিডিও রয়েছে। মেক্সিমাম উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা এই অশ্লীল ভিডিও তৈরি করছে। অবশ্য অনেকে এর ভয়াবহ ক্ষতির দিক কল্পনা না করেই এমন অনৈতিক অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে হয়তো সে নিজেও জানে না কত বড় ক্ষতি করছে সমাজের। যার থেকে তরুন সমাজ ধর্ষণ এর দিকে যাচ্ছে। ধ্বংস করে দিচ্ছে সমাজের নৈতিক শিক্ষা। আমাদের সমাজের এমন অনেক সেনসেটিভ বিষয় আছে যেগুলোর প্রয়োজনীয়তা বা অপব্যবহার মানবিক দিকগুলো পর্যালোচনা করা একান্ত জরুরী। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আমাদের সমাজের বাস্তবতা এমন যে আমাদের সচেতনতাবোধ আমাদের আহত করে ৷ পাছে লোকে কিছু বলে এমন মনোভাব নিয়ে আমরা দায় মুক্ত হই ৷ এমন অবস্থায় দাই মুক্ত না হয়ে সকলে মিলে আমাদের এক সাথে একযোগে কাজ করতে হবে।

সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে। আইনের প্রয়োগ আরো জোরদার করতে হবে, যাতে করে কোন মেয়ে বা নারীকে তার জীবন দিতে না হয়। অসময়ে যেন তাদের স্বপ্ন না ভাঙ্গে। এই সমাজে যেন আর কোনো মায়ের কোল খালি না হয়। কোন পিতার যেন সন্তান এর লাশ কাঁদে নিতে না হয় ৷ এখনি সময় আমাদের সমাজের পরিবর্তন ঘটানোর নয়তো একদিন আমাকে, আপনাকে এবং সবাই বয়তে  হবে এর ভয়াল চিত্র, দিতে হবে এর চরম খেসারত । হয়তো আমাদের দু’নয়ন অশ্রুতে ভিজে উঠবে কোন এক সকালে।

লেখকঃ ইমরান হাসান, (শ্রীপুর) গাজীপুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ