,



শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের বিশেষ সাইরেনে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য ও বিপাকে জনসাধারণ’

  • মেহেদী হাসান রনী

ফায়ার সার্ভিস স্টেশন আমাদের কাছে এক ভরসা ও বিশ্বাসের নাম। নিজেদের জীবন বিপন্ন জেনেও মানুষের সেবার তাঁরা সবার আগে এগিয়ে আসেন। কোথাও আগুন লাগার খবর পেয়ে মূহুর্তে গিয়ে হাজির হয়। নিজেদের সর্বোচ্চ শক্তি বিনিয়োগ করেন মানুষের জান-মালের হেফাজত করতে। এটাই আমাদের চিরপরিচিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হলেও একটি ভিন্ন চিত্র আমাদের সামনে এসেছে। সেটা অবশ্যই মানবতার পরিপন্থী। আমাদের শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি মাওনা চৌরাস্তার অতিসন্নিকটে এক জনবহুল আবাসিক এলাকা প্রশিকা মোড়ে অবস্থিত। এই স্টেশন থেকে ২৪ ঘন্টায় তিনবার বিশেষ এবং বিকট একটা আওয়াজ করা হয়। সেহেরির আগে, সেহেরির শেষ সময় আর ইফতারের সময় (শুধু রমজান মাসেই আওয়াজটা করা হয় এর জন্য আলাদা যন্ত্র বসানো আছে)। শব্দটা কতটা মারাত্মক ও ক্ষতিকর যারা সামনাসামনি শুনেছেন শুধু তারাই জানেন। শব্দ নিয়ন্ত্রণ আইনে শব্দের সাধারণ মাত্রা ৬৫ থেকে ৭৫ ডেসিবল ধরা হয়। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে উৎপাদিত শব্দ সে মাত্রাকে ছাড়িয়ে এক ভয়ানক রূপ নেয়। এটি অবশ্যই শব্দদূষণের আওতায় পড়ে। পড়া উচিত।

উল্লেখ্য এই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশেই একটা প্রাইভেট হাসপাতাল রয়েছে। এই হাসপাতালে প্রতিদিনই নবজাতকের জন্ম হচ্ছে। গর্ভবতী মা ও নবজাতকের জন্য এ শব্দটা খুবই ভয়ানক প্রভাব ফেলতে পারে। হোক প্রাইভেট হাসপাতাল, এখানে তো সাধারণ মানুষেরাই সেবা নিতে আসে। এছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় আশেপাশের বাড়ির বয়োবৃদ্ধ, রোগগ্রস্থ, সন্তানসম্ভবা নারী ও শিশু বাচ্চাদের জন্য একটা হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। হ্যাঁ, একটা সময় যখন ঘনবসতি ছিলোনা, মানুষের হাতে মোবাইল ফোন ছিলোনা, মসজিদে মাইক ছিলোনা তখন হয়তো সময়ের প্রয়োজনেই এটা দরকার ছিলো। কিন্তু এখন আর প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা, পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আহাম্মাদুল কবীর আমাদেরকে বলেন, ‘ইফতার এবং সেহরির সময় আশেপাশের অন্তত দশটি মসজিদ থেকে আজান হয়, আজানের সময় এমনিতেই আমরা কোন শব্দ করি না। আমি জানিনা আজানের সময় এই বিকট সাইরেন দিয়ে শব্দ তৈরি করা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও যৌক্তিক কিনা। এই শব্দটা যে কত তীব্র; যারা ১ শ’ গজের মধ্যে থাকেন না, তাদের কাছে কল্পনা করাও কঠিন। আমরা চাই অনতিবিলম্বে এটি বন্ধ করা হোক।’ এই এলাকার আরেক বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম সুমন বলেন,’এই শব্দটি আমাদের রীতিমতো ভয়ানক ক্ষতি করছে। ইফতারের সময় আজান শুনে আমরা ইফতার করতে পারছিনা এদের যন্ত্রণায়। তাছাড়া আমার বাবার হার্টের অসুখ। এই শব্দ বাবার জন্যেও মারাত্মক ক্ষতিকর।’

এ বিষয়ে ডাঃ শারমিন সুলতানার কাছে জানতে চাইলে উনি বলেন,”এই শব্দটি অবশ্যই ৭৫ ডেসিবলের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রা বহন করে। গর্ভধারণের প্রথম দিক পার করেছেন এমন নারীর গর্ভপাত হয়ে যেতে পারে এই শব্দে। এমনকি গর্ভের সন্তানও প্রতিবন্ধী হয়ে যেতে পারে। হার্টের রোগীর হার্টের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। সাধারণ মানুষদের মধ্যে অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দা, উচ্চরক্তচাপ, মাথাব্যথা, কানে কম শুনা ও অল্পতে রেগে যাওয়া এ সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।’ এলাকাবাসী এই শব্দরোধ করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

শ্রীপুর, গাজীপুর ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ