,



নির্লজ্জ শব্দবোমা সন্ত্রাসীদের প্রতি খোলা চিঠি

  • রাজীব কুমার দাশ

আমাদের কারো সাথে কোনো পরিচয় নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক) যে মাত্র চালু করে কারো সুখ-দুখ স্মৃতি- অনুরাগ বিরাগ-সাহিত্য-ইতিহাস-ভূগোল-পড়াশোনা-স্পোর্টস-প্রকৃতি-কবিতা -আলাপন যেটা-ই করুন না কেনো!এমনকি হাজারো অব্যক্ত কষ্ট নিয়ে পরপারে পাড়ি নেয়া জাতীয় বীর,সর্বজনখ্যাত মানব-মানবী,রাষ্ট্রের যে কোনো প্রতিষ্ঠানের -স্বাভাবিক/অস্বাভাবিক আপন-পর মৃত্যু সংবাদগুলো পর্যন্ত যে মাত্র কোনো সংবাদ পোর্টাল বা আইডি-তে প্রকাশ পেয়েছে! আপনি কান্নাকাটি করছেন–কান্নাখেকো কষ্ট আপনাকে কুঁড়ে-কুঁড়ে খাচ্ছে? ঠিক সে সময় কমেন্টস স্ক্রীণ আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। দেখতে পাবেন–১। মরেছে ভালো হয়েছে ২। নরক/দোজখ পাবে/ঘুষখোরের বাচ্চা ৩। অমুকের বাচ্চা (যা অতিমাত্রা অশ্লীল) ৪/ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছে ৫। পঙ্গপাল  ৬। ভাগ্য ভালো মরেছে– যদি পাইতাম- “মেশিনগান দিয়ে ঠা-ঠা-ঠা করে গুলি করে দিতাম”।

বুঝুন এবার ঠেলা! চেনা-জানা নেই,মামলা -মোকদ্দমা নেই, উড়ে এসে জুড়ে বসে শব্দ বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অবুঝ বালক, নীল পরী, অদেখা স্বপ্ন,বিশ্বাসঘাতক, এখনো কাঁদি, ঘুম আসেনা, লুটেপুটে খাই–এ ধরনের ভয়ানক শব্দ আইডি বোমারু বিমানগুলো লাপাত্তা! আমি এর আগে ভয়ানক শব্দ বোমাবাজের বিরুদ্ধে কলম ধরেছি।আজ আবারো “করোনাযোদ্ধা” নিয়ে শব্দবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

আজ Ochin Pakhi নামে “সাউন্ড ফাইটার জেড” শব্দবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে লাপাত্তা! শব্দবোমার বিস্ফোরনে নীরবে মাঝে-মাঝে ভাবি, এ বোমারুসাউন্ড ফাইটারগুলো আর কতো — আপনার–আমার জীবনে “অচিন পাখি” অধরা থেকে শব্দবোমা মেরে যাবে?

#আশা করছি উত্তর দেবেন-

শব্দসন্ত্রাসী ochin pakhi সারা জীবন অচিন থেকে অমানবিক শব্দবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে যাবেন?

সৎসাহস নিয়ে এগুতে পারবেন না জানি!আজ আপনাদের পরিবার, স্বজনদের কোন প্রকার প্রশিক্ষন -ছাড়াই সেবা, দাফনকাজ, খাবার, পরিবহন, সব করে যাচ্ছে গর্বিত বাংলাদেশ পুলিশ।বাংলাদেশ পুলিশ দেশপ্রেম নিয়ে জাতির জনকের ডাকে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবনের মায়া ত্যাগ করে প্রথম অস্ত্র হাতে নিয়েছে।বহু গর্বিত দেশপ্রেমিক পুলিশ সদস্য সেদিন বুকের তাজা রক্ত ঢেলে সুদাসলে “দাম দিয়ে এ বাংলার পতাকা কিনেছে”কারো দয়ায় নয়। এ করোনা যুদ্ধে পুলিশের হাতে যা কিছু ছিলো। তা নিয়ে নেমে পড়েছে। কারো দয়া,পুরস্কারের আশা নিয়ে নামেনি!আমি আরো অবাক হচ্ছি –“আপনাদের মতো শিক্ষিত প্রজন্ম কি ভাবে এ অপরিনামদর্শী হৃদয়বিদারক বাক্য বাণে তথা “ভয়ংকর শব্দবোমা “দিয়ে মনকে মরুভূমির ধূ-ধূ বালুচর বানাতে পারেন? আমি আরো আশ্চর্য হচ্ছি!আপনাদের মতো এতো জঘন্য হিংসুটে মানসিকতা নিয়ে কি ভাবে আপনারা এগিয়ে যাবেন? আমরা আপনাদের হতে কি আশা করতে পারি? আজ আমার কলম আইন-বিধি- পরিপত্র-সংবিধান-মানবাধিকার দৃষ্টে কলমদানিতে সাঁটানো। যদি ব্যত্যয় হতো? শুধু আপনাদের মতো শব্দবোমা সন্ত্রাস’র জবাব কলমের দ্যুতিময় ষ্ফুলিংগ ছড়িয়ে জাতীয় পত্রিকার কোনো সম্পাদকীয় পাতায় ছড়িয়ে দিতাম। বাংলাদেশ পুলিশের গর্বিত অংশীদারগন এ দেশের সন্তান। সর্বোচ্চ জ্ঞান, ডিগ্রী নিয়ে আজ বাংলাদেশ পুলিশের পথচলা। সবাই পুলিশ হতে পরীক্ষা দেয়-কিন্ত-ক’জনা টেকে? সবাই এখন জাঁদরেল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে মানবিকতা ও সেবার চ্যালেঞ্জ নিয়ে পুলিশিং করছে। আরো অবাক হবেন যে–অনেক কনষ্টবল সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার। অনর্গল ইংরেজী এখন কনষ্টবল বলে। আপনি হয়তোবা পুলিশে আসার চেষ্টা করেছিলেন? বাদ পড়েছেন, আর পারবেন না,তাও জেনে গিয়েছেন? এমন হতে পারে, আপনার পরিবারের কেউ বা আপনি আইনের দৃষ্টিতে দোষী! তাই সৎ সাহস হারিয়ে আগডুম-বাকডুম ছড়া গেয়ে যাচ্ছেন।

চিন্তার কারন নেই! জীবনের একটা ব্যবস্হা হয়ে যাবে। শুধু শুধু মৃত্যুঞ্জয় “করোনা যোদ্ধাদলকে শব্দবোমা” না মেরে একটু নিজের মনন -নন্দন সমৃদ্ধ করুন।যদি এতে ও আপনার/আপনাদের পুলিশকে শব্দবোমা মারতে ইচ্ছে হয়? আমার ইনবক্সে যোগাযোগ করুন। একটা” নির্লজ্ব শব্দবোমা পরিষদ “গঠনে সহায়তা দেবো। কারন- আপনাদের পূর্বসূরি প্রেতাত্মা নবাব সিরাজউদ্দৌলা হতে না পেরে মীরজাফর হতে এখনো আপনাদের টানছে–

লেখকঃ রাজীব কুমার দাশ

লেখক ও কবি
পুলিশ পরিদর্শক
বাংলাদেশ পুলিশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ